মেনু নির্বাচন করুন

এশিয়ার বৃহত্তম চা বাগান, সুরমা

মাধবপুরে অবস্থিত এশিয়ার বৃহত্তম সুরমা চা বাগানে নতুন করে একশ একর পতিত ভূমিতে নতুন চা বাগান সৃজন করা হয়েছে। নিজস্ব নার্সারিতে উৎপাদিত ৮ লাখ ক্লোনটি জাতের চারা রোপণ করা হয়েছে। কৃত্রিম উপায়ে বাগানের জলাধার থেকে সেচের মাধ্যমে পানি দেয়ায় প্রতিটি চারা এখন সুস্থ এবং সবল হয়ে উঠেছে। এক সময় অদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সুরমা চা বাগানে ছায়াবৃক্ষ বালু ও মাটি পাচারের ফলে বাগান ধ্বংসের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু গত ৫ বছর ধরে বাগানের উঁচু-নিচু বিশাল পতিত ভূমিতে নার্সারিতে চারা উৎপাদন করে নতুন চা বাগান সৃজন করায় বাগানের পরিধি ও উৎপাদন দিন দিন বেড়েই চলেছে। বাগানের ব্যবস্থাপক আবুল কাশেম জানান, এ বছরের শুরুতে শুকনো মৌসুমে বাগানের ৩টি নার্সারিতে ১০ লাখ ক্লোনটি জাতের চারা উৎপাদন করা হয়। এরপর পতিত ভূমিতে কলের ট্রাক্টর দিয়ে জমি চা চারা লাগানোর উপযোগী করে তোলা হয়। বর্ষা মৌসুমের প্রথম দিকে চারা রোপণ করে প্রতিদিনই পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত রয়েছে শ্রমিকরা। যে কারণে নতুন চা বাগানের প্রতিটি চারা সুস্থ ও সবল রয়েছে। গত ৫ বছরে পতিত জমিতে নতুন চা বাগান সৃজনের ফলে বাগানের পরিধি ও চা উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। সুরমা চা বাগানের শ্রমিক নেতা মঙ্গল মুণ্ডা জানান, এক সময় এ বাগানের অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। দীর্ঘদিন পতিত হিসেবে পরে থাকা জমিতে নতুন করে চা গাছ সৃজিত হওয়ায় শ্রমিকরা এখন খুশি। এতে শ্রমিক মালিক লাভবানের পাশাপাশি জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাবে। ২০১৩ সালে ওই বাগানে সর্বোচ্চ ৯ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়। এশিয়ার বৃহত্তম চা বাগানে মোট আয়তন ৪ হাজার একর। এর মধ্যে চা চাষাবাদে রয়েছে ১৮শ একর। প্রতিদিন ২২শ শ্রমিক এ বাগানে নিয়মিত কাজ করছে। পর্যায়ক্রমে পতিত জমিগুলো চা চাষের আওতায় আনা হচ্ছে। এতে বাগানে চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন চারা গাছ থেকে ৫ বছর পরেই চা উৎপাদন করা সম্ভব।


Share with :

Facebook Twitter